আমার জীবনের গল্প

পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী লালবাগের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে আমার জন্ম। পিতার অনুপ্রেরণায় অল্প পুঁজিতে নিজস্ব মেধার সাহায্যে স্বল্প সময়ে আমি “মদিনা ট্রেডিং কর্পোরেশন” নামে আমার নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। নিরলস কঠোর পরিশ্রমের ফলশ্রুতিতে বর্তমানে “মদিনা গ্রুপ” বাংলাদেশের একটি অন্যতম সফল প্রতিষ্ঠান।

 

১৯৯৪ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার পর বিপুল জনসমর্থন পেয়ে একই সাথে ৬৫ ও ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হই। পরবর্তীতে একটি ওয়ার্ড ছেড়ে দিলে আমার স্ত্রী গুলশান আরা সেলিম ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে সরাসরি ভোটে সর্বপ্রথম মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে আমার জনপ্রিয়তার পুনঃবিকাশ ঘটান। আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে তৎকালীন ঢাকা-৮ (লালবাগ-হাজারীবাগ-কামরাঙ্গীরচর) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সাধারণ মানুষের সেবায় নিজের সমস্ত মেধা ও শ্রম কাজে লাগাই।

আমার নির্বাচনী প্রত্যয় অনুযায়ী সর্বপ্রথম সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করি। ফলে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসে। আমার গৃহীত উন্নয়ন কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কারের কাজ করি এবং শিক্ষার মান উন্নত করি।

 

আমি ১৯৯৯ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করি। ২০০১ সালে ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে মাত্র ১০৯২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত ঘোষনা করে জোর পূর্বক আমার এবং আওয়ামী লীগের বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়। দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় বিএনপি-জামাতের দুঃশাসন। জনগণের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় আমার এবং আমার পরিবারের উপর নেমে আসে জুলুম-নির্যাতন। আমার বিরুদ্ধে দেয়া হয় ১৩৭টি মিথ্যা মামলা। বিএনপি-জামাত সরকারের নির্যাতনে আমাকে বারবার কারাগারে যেতে হয়। ২০০৮ সালে মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের বিদ্বেষপ্রসূত আচরণে সংসদ নির্বাচনে নিজেকে বিরত থাকতে হয়। সেই সময়ে দলের পক্ষে আমি সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। আমার অক্লান্ত পরিশ্রমে তৎকালীন ঢাকা-৭ (লালবাগ-চকবাজার-কোতয়ালী-বংশাল) আসনে আমার দল আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। ২০১৪ সালে “স্বতন্ত্র প্রার্থী” হিসেবে আপনাদের ব্যাপক সমর্থনে ১১,৯৫৫ ভোট বেশি পেয়ে অত্র এলাকার ইতিহাসে প্রথমবার পুনরায় সংসদ সদস্য হিসেবে জয়লাভ করি।